https://asia24.tv


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: -সংগৃহীত
বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে পুলিশ কোনো বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বরং পুলিশ হবে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু—আজ রোববার সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে সর্বপ্রকার দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব, সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
ছয় মাসব্যাপী কঠোর মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে আজ ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তব কর্মজীবনে পদার্পণ করলেন। দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনার স্মৃতি স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রায় দেড় যুগ আগে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছিল এই কর্মকর্তাদের। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও সীমাহীন বঞ্চনার পর ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ফলে ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ায় তিনি নবীন কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এই রূপান্তরকালীন রাষ্ট্র কাঠামোয় তাঁদের প্রতি জাতির প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। দীর্ঘ সময় পর অধিকার ফিরে পাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ও দেশের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
নবীন কর্মকর্তাদের পেশাগত দিকনির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, সততা ও পেশাদারিত্বই একটি বাহিনীর শক্তির মূল ভিত্তি। চাকুরিজীবনে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া তাঁদের প্রধান কর্তব্য। আইনের চোখে রাজনৈতিক কর্মী কিংবা প্রান্তিক কৃষক সবাই সমান, ফলে থানায় সেবা নিতে আসা কোনো সাধারণ নাগরিক যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার না হন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরুল্লেখ করে তিনি যেকোনো ধরনের অসদুপায় বা লোভ থেকে মুক্ত থাকার আহ্বান জানান। বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ওপরও তিনি সমান গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ফেরাতে এবং শৃঙ্খলা পুনপ্রতিষ্ঠা করতে সরকার পুরস্কার ও তিরস্কারের নীতি চালু করেছে; যেখানে ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং অপরাধের জন্য উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। দৃষ্টিনন্দন এই কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ‘বেস্ট প্রবেশনার’ এবং ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুই ক্যাটাগরিতেই শ্রেষ্ঠত্বের পদক অর্জন করেন। এছাড়া চমৎকার ফলাফলের জন্য ‘বেস্ট একাডেমিক’ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং নিশানাভিত্তিক খেলায় ‘বেস্ট শ্যুটার’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন এ, বি, এম মামুন।
কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে দেশের সমসাময়িক নানা আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে কথা বলেন। আগস্ট মাসকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করে তিনি জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা এ মাসে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যে কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত ব্যাগ ঘিরে সৃষ্ট ‘বোমা আতঙ্ক’ নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিগত ৫-৬ মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, বিগত সময়ের তুলনায় দেশে নাশকতার পরিমাণ অনেকটাই কম এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


