https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর ওপর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হামলার চেষ্টার জবাবে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার ইরানের একাধিক সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর জবাবে পাল্টা আঘাত হিসেবে ইরাক, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় সার্বিক সংঘাত এক অভূতপূর্ব ও ঝুঁকিপূর্ণ রূপ ধারণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ইরানে আইআরজিসির বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেন্টকম জানায়, প্রথম ধাপের এই সামরিক অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে আইআরজিসির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার নেটওয়ার্ক, সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনা, নৌ-মাইন স্থাপনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং তাদের গোপন যোগাযোগব্যবস্থাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা উত্তেজনার পর সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রত্যক্ষ আক্রমণের মাধ্যমে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করল।
এদিকে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থানে হামলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি বসতবাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়। মানবতাবিরোধী এই ‘বর্বর’ হামলায় এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া বান্দার আব্বাস, কোনারাক এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপেও বিকট বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
মার্কিন অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন অবস্থানগুলোতে একযোগে তীব্র হামলা শুরু করেছে আইআরজিসি। তারা উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে প্রচারিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইরাকের এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর একটি জটিল বিমান মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি যন্ত্রপাতির গুদাম এবং নজরদারি বেলুনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন বলেও দাবি করে আইআরজিসি।
পাশাপাশি জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন রাখা সংরক্ষিত হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তবে জর্ডানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টিকেই মাঝপথে সফলভাবে ধ্বংস করেছে জর্ডানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
অন্যদিকে বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবহর ও রাডার কেন্দ্রকে নিশানা করে একঝাঁক বিধ্বংসী ড্রোন পাঠায় ইরানি সামরিক বাহিনী। খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি ঘোষণা করেছেন, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার বদলা নিতেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাটিতে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীকে যেকোনো সহায়তা প্রদানকারী আঞ্চলিক দেশগুলোকেও এর চরম মাশুল গুনতে হবে বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যেখানে মূলত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদারের দিকে নজর দেওয়ার আভাস দিয়েছিল, সেখানে হঠাৎ এই সামরিক সংঘাত গোটা অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি পাল্টে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা অব্যাহত রাখলে তার পরিণতি আরও বেশি ‘ধ্বংসাত্মক’ হবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে পুরো বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


