https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট/ ১২ রবিউল আউয়াল) দেশে যথাবিহিত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আকুল শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সাথে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হচ্ছে। প্রায় ১,৪০০ বছর আগে এই দিনে মানবজাতির জন্য সত্যের আলো নিয়ে আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের একই দিনে তিনি ইন্তেকালও করেন।
দিবসটি উপলক্ষে দেশে আজ সরকারি ছুটি। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর প্রধান সড়ক ও দ্বীপগুলো সুসজ্জিত করা হয়েছে জাতীয় পতাকা ও ‘কালিমা তায়্যিবা’ অঙ্কিত ব্যানারে। আজ মুসলমানরা নফল ইবাদত, কোরআন তিলওয়াত, জিকির, দরুদ পাঠ ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করবেন; অনেকেই পালন করছেন নফল রোজা।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের সব মুসলিমকে মোবারকবাদ জানান। মহানবীর (সা.) শিক্ষাকে ধারণ করে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায় ও বৈষম্য পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি সাম্য, সম্প্রীতি ও সুবিচারের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গড়ার বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, মহানবীর (সা.) শুভাগমন মানবজাতির ইতিহাসে এক অনন্য সূচনা। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তাঁর আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণ করলেই একটি কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ১৫ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিঙ্কন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের বরেণ্য আলেমরা রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবন ও কর্মের ওপর বয়ান পেশ করবেন।
ফাউন্ডেশনের সার্বিক আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—ওয়াজ, কিরাত ও হামদ-নাত মাহফিল, বাংলাদেশ বেতার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার, রাসুলুল্লাহকে (সা.) উৎসর্গ করে কবিতা পাঠের আসর, শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য বিভিন্ন ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী এবং সিরাত স্মরণিকা প্রকাশ। এছাড়া জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী বর্ণাঢ্য ইসলামি বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।


