https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
ইসলামী ধারার ৫টি ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-এর আমানতকারীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের এক বৈঠকে আমানতের ওপর থেকে সব ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বাড়াতে ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।
এ বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর-ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আমিনুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিকে আমানতকারীদের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে অনেক আমানতকারীর মধ্যে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। এ কারণে ব্যাংকটির সব আমানতকারীকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গভর্নরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কোনো আমানতকারীর মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট বা কর্তন করা হবে না—বিষয়টি তাদের পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে।
এছাড়া, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা যাতে তাদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ ফেরতের নির্ধারিত সীমার বাইরে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, নির্ধারিত অর্থ ফেরতের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আমানতকারীদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আরও অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংককে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, পিএলসি। ব্যাংকটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
ব্যাংকটির সেবা ও কার্যক্রম যাতে দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাতে গভর্নর ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত, অর্থ উত্তোলনের সুযোগ এবং ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে চেয়ারম্যান ও এমডির সঙ্গে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার ফলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট না থাকার বিষয়টি আমানতকারীদের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডি গভর্নরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।


