https://asia24.tv


অনুষ্ঠানের আলোচক বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। ছবি: -ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব টেকসই করতে নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক স্বার্থ, কৌশলগত সহযোগিতা এবং জোট গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুঙ (এফ-ই-এস) বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ সিরিজের তৃতীয় পর্বে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী এবং এফইএস বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টিটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেদেস। তাঁরা সমসাময়িক দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, ন্যায়বিচারের সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম। উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, কূটনীতি কেবল বন্ধ দরজার আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন ও মানবাধিকারের মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো সরাসরি তরুণদের ভবিষ্যতের সাথে জড়িত। শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটাতে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি ও জটিল চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্লেষণ করেন। বৈশ্বিক সংঘাত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জলবায়ু ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও খোলামেলা সংলাপ অপরিহার্য।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, একটি স্থিতিশীল সমাজ গঠনে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘আইনের শাসন’ ও ‘উন্মুক্ত নাগরিক পরিসর’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপান্তর ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে বাংলাদেশ বহু দূর এগিয়ে যাবে। বাণিজ্য নীতি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং উন্মুক্ত বাণিজ্য পরিবেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করে। ইইউ ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা শিক্ষা, উচ্চতর গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘ নয় বছর ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। তিনি নিশ্চিত করেন যে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সাহায্য অব্যাহত থাকবে এবং এই সংকটের একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখা জরুরি।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও সবুজ রূপান্তর (গ্রিন ট্রানজিশন) নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মাইকেল মিলার রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সাথে সমন্বয় করে নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের বিকাশ ঘটানোর তাগিদ দেন তিনি।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে নিজের দায়িত্ব গ্রহণের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন যে, সঠিক নেতৃত্ব এবং ইইউ-সহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে অব্যাহত সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ একটি সুসংগঠিত সমাজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে উপস্থিত শিক্ষার্থী, গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ রাষ্ট্রদূত মিলারের কাছে বাণিজ্য নীতি, জলবায়ু তহবিল, উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত সানন্দে তরুণদের বিভিন্ন চিন্তাভাবনা শোনেন এবং সেসবের উত্তর দেন। সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


