https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ–অভ্যুত্থান হবে না। তার ভাষায়, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানকে ঘিরে মানুষের যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ভবিষ্যতে এমন আন্দোলনে অংশ নিতে মানুষ বহুবার ভাববে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষ শেষবারের মতো নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিল। কিন্তু পরে তারা দেখেছে, এটি কিছু মানুষের ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে উগ্রবাদের উত্থান ও অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, গণ–অভ্যুত্থানে হিজাব পরা ও হিজাববিহীন নারীরা একসঙ্গে অংশ নিলেও পরবর্তী সময়ে সেই পরিবেশ কেন বজায় থাকল না। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভাঙচুর, এবং একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর ঘটনাও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
গণ–অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতির কথা আগে জানা থাকলে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনেকেই ভিন্নভাবে ভাবতেন।
আলোচনা সভায় রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণ–আন্দোলনের পর যেমন মানুষ প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পায়নি, তেমনি চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বিভাজন আরও বেড়েছে এবং সংস্কারের মূল লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, গণ–অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তার মতে, জনগণের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে দেশ বারবার একই সংকটে পড়বে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, গণ–অভ্যুত্থান সংঘটিত করা যতটা সহজ, তার চেতনা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তাই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার, সিরাজ মিয়াসহ অন্য নেতারা।


