https://asia24.tv


প্রতীকী ছবি। ছবি: -সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার পর এবার আধুনিক ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রাথমিকভাবে ঢাকা নগরের অত্যন্ত ব্যস্ত ও যানজটপ্রবণ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ড্রোনের সাহায্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হচ্ছে। সম্প্রতি ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এই নতুন প্রযুক্তিগত পরিকল্পনার সার্বিক দিক তুলে ধরেন।
ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ড্রোন সার্ভিলেন্স অতি পরিচিত বিষয় হলেও ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন উদ্যোগ। অনেক সময় শহরের ফ্লাইওভার কিংবা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হঠাৎ দীর্ঘ যানজট তৈরি হলে এর প্রকৃত কারণ ও সুনির্দিষ্ট স্থান তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশপথ থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়ার কারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থাকা কর্মকর্তাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত কার্যকরী দিকনির্দেশনা দেওয়া সহজ হবে।
ভবিষ্যতে ড্রোনে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট সনাক্তকরণ (এএনপিআর) ব্যবস্থা যুক্ত করা হলে সড়ক আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ভিডিও মামলা দেওয়াও সম্ভব হবে। ড্রোনে যুক্ত থাকা স্পিকার ও সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি চালকদের সতর্কবার্তা প্রদান করা হবে। যেমন— কোনো বাস বা গাড়ি অযাচিতভাবে মাঝরাস্তায় অবস্থান নিলে ড্রোন থেকেই তাকে সরে যাওয়ার মৌখিক তাগিদ দেওয়া যাবে।
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার মূল সমস্যা চিহ্নিত করতে গিয়ে তিনি বলেন, গণপরিবহনগুলো নির্ধারিত স্টপেজে না থেমে যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করায় পেছনের পুরো সড়কে তীব্র জট তৈরি হয়। বাস মালিকদের সঙ্গে চালকদের দৈনিক চুক্তভিত্তিক অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থার কারণে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এর ফলে প্রায় প্রতিটি বাসে আঘাত ও ক্ষতির দাগ দেখা যায়। বাসে ই-টিকিটিং ও রুট রেশনালাইজেশন পুরোপুরি নিশ্চিত করা না গেলে এবং বাসের প্রতিযোগিতা বন্ধ না হলে এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে না।
ড্রোন থেকে পাওয়া ডেটা সরাসরি পাওয়া যাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইন্টারনেট ও সুনির্দিষ্ট অবকাঠামো ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক ডেটা পর্যবেক্ষণ সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো, শক্তিশালী ব্যাকএন্ড সার্ভার ও ব্যয়বহুল ইন্টারনেট সংযোগের দরকার রয়েছে। আপাতত প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা সাধারণ চালকদের হয়রানি এড়াতে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল মামলা দেওয়ার বদলে ধারণ করা ফুটেজ ট্রাফিক বিভাগে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে ম্যানুয়ালি মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি করা তাদের মূল উদ্দেশ্যে নয়; বরং মানুষকে ট্রাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করাই মূল লক্ষ্য।
ড্রোন পরিচালনার জন্য কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন হওয়ায় পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের একটি দল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে এবং আগামী সপ্তাহে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের ট্রেনিং দেওয়া হবে। এর আগে শাহবাগসহ ১৫টি ট্রাফিক সিগন্যালে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এই ড্রোন প্রযুক্তি সফল হলে তা ঢাকা শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলেও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে।


