https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল হাসপাতালের দুই জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। রবিবার (২৩ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা প্রধান এই তথ্য জানান। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন সানি সাহা (৩৮) ও ফাতিন ইসরাক লাবিব (২০)।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই ধানমন্ডিতে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দুষ্কৃতকারীরা গাড়ি থামিয়ে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে ফেরার পথে ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাক, কান ও গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালানো হয়। আসামিরা তাঁকে সিএনজি থেকে টেনে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং ডান চোখে গুরুতর আঘাত করে। এ সময় স্থানীয়রা ‘জীবন ওরফে আদিল’ নামে এক হামলাকারীকে হাতেনাতে ধরে পল্টন থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় আহত চিকিৎসক বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, হামলার কিছুদিন আগে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে তাঁর কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের মাধ্যমে ডিবি পুলিশ রবিবার রাতে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া থেকে সানি সাহা এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ থেকে ফাতিন ইসরাক লাবিবকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সানি সাহা জানান, ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার সময় জান্নাত আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তির সাথে তাঁর পরিচয় হয়। সেখানে মানি লন্ডারিং ব্যবসায় বিনিয়োগ করে পাঁচ কোটি টাকা হারিয়ে তিনি অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফেরার পর জান্নাত আলমগীর তাঁকে সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা এবং অধ্যাপক আমিনুল হক ও অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের দায়িত্ব দেন।
সানি সাহা এই হামলার জন্য লোক সংগ্রহের দায়িত্ব দেন ফাতিন ইসরাক লাবিবকে। লাবিব নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সানির সাথে সাক্ষাৎ করে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে আবু বকর, রাতুল, ইবান, জীবন ও সাব্বির নামে কয়েকজনকে নিয়ে ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।
বর্তমানে এই মামলার আসামি ইবান ও জীবন কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া সানি সাহা ও ফাতিন ইসরাক লাবিবের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।


