https://asia24.tv


নেপালে চলমান উদ্ধারকাজ। ছবি: -সংগৃহীত
নেপালে প্রলয়ংকারী আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা ৯০০ অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে বিপর্যয়ের মুখে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শত শত মানুষকে উদ্ধার করতে তৎপরতা আরও জোরদার করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। খবর সিএনএন-এর।
উদ্ধারকারীদের তথ্যমতে, ভূমিধস ও বানের পানিতে নেপালে এ পর্যন্ত অন্তত ৯০৩ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ। এদের মধ্যে ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীসহ দেশের বিভিন্ন শক্তি প্রকল্পের শত শত শ্রমিক ও প্রকৌশলী রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীন ও ভারত থেকে আসা বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দলগুলো সুড়ঙ্গের গভীরে আটকে পড়াদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।
অন্যদিকে, নেপাল সীমান্তবর্তী তিব্বত অঞ্চলেও এ বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীন সরকার। সেখানে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কিছু অংশে এক মিটারেরও বেশি পুরু কাঁদা ও পলির স্তর জমেছে; ফলে পলিস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা বাড়ছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) হালনাগাদ তথ্যে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবারের পাহাড়ি ভূমিধসে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে জমে থাকা বিপজ্জনক হ্রদটি ‘স্বাভাবিকভাবে পানি ছেড়েছে’, যা সাময়িকভাবে আশপাশের প্লাবন ঝুঁকি কমিয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত গিয়িরং এলাকা জুড়ে ভারী ও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
তিব্বত ও নেপাল সীমান্ত অঞ্চলে নিবিড় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম ধ্বংসস্তূপ ও পলির মধ্যে নিখোঁজদের সন্ধানে শতাধিক দমকলকর্মী এবং বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুরের দল মোতায়েন করা হয়েছে। রেড ক্রসসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।


