https://asia24.tv


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: -ফাইল ছবি
বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বর্তমানে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যায় কিনা—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সিএনবিসির প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র কৌতূহল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বিষয়টি কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ নয়, বরং স্রেফ আলোচনার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে বহুদূরের একটি বৈশ্বিক সমুদ্রপথের নাম আমেরিকান প্রশাসন কীভাবে পরিবর্তন করবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্ররা স্পষ্ট কিছু জানাননি।
ভৌগোলিক স্থানে নিজের নাম যুক্ত করার কিংবা আমেরিকান ভাবধারা চাপানোর উদ্যোগ ট্রাম্পের জন্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ এবং কানাডা সীমান্ত সংলগ্ন ‘লেক অন্টারিও’র নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কানাডা ও মেক্সিকো এই নামকরণ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেও মার্কিন মানচিত্রে গুগল ও অ্যাপল টেক জায়ান্টগুলো তা অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যবর্তী টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার মাধ্যমে ইরানকে ব্যাকফুটে ঠেলে আমেরিকা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে নিয়মিত বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপার সাময়িকভাবে হ্রাস পেলেও বিকল্প উপায়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে মার্কিন প্রশাসন দাবি করে।
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটের মতে, চরম উত্তেজনার মাঝেও সোমবার এই প্রণালি দিয়ে রেকর্ড ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলের বেশি খনিজ তেল নিরাপদে পরিবাহিত হয়েছে। ভৌগোলিক নামের পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কৌশলগত এই প্রণালির নিরাপত্তা ও সামরিক আধিপত্য বজায় রাখার বার্তাই স্পষ্ট করছে ওয়াশিংটন।


