https://asia24.tv


উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নেপালের সেনাবাহিনী। ছবি: -সংগৃহীত
হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। উভয় দেশ মিলিয়ে এখনও অন্তত ৪ হাজার ৭৫৭ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০৪ জনে পৌঁছেছে এবং ৪ হাজার ২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তবর্তী রসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় প্রায় ১৬ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অন্যদিকে তিব্বত সীমান্তে ২১ জন নিহত ও ৫৪১ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয়ের লেন্দে উপত্যকায় লাংটাং লিরুং পর্বতের একটি বিশালাকার হিমবাহ ধসে নদীতে আছড়ে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট প্রবল পাহাড়ি ঢল ও হড়পা বান ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লোকালয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
হিমবাহ ধসের প্রভাবে নেপালের ভূতাত্ত্বিক কেন্দ্র ৪.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূকম্পন রেকর্ড করে। বানের তোড়ে নেপালের উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৪১টি পাকা সেতু সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। কেবল নুয়াকোট জেলাতেই এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বর্তমানে ভোতেকোশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া কর্মীদের উদ্ধারে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিবেশগত সংকটের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ ও নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


