https://asia24.tv


নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদনে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক। ছবি: -প্রতিনিধি
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুপ্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬ বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত স্কেল অনুযায়ী ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিধান রাখা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত খসড়াটি অনুমোদন পায়।
এর আগে সকালে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা ও সার্বিক প্রভাব পর্যালোচনা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাজেট সংস্থান ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। উক্ত পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য মতে, পে-কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সচিব কমিটি মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে, যা মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়। মূল বেতনের পাশাপাশি কর্মচারীদের চিকিৎসা, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতাতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
নীতিগত অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে ভেটিং সম্পন্ন হলেই অর্থ বিভাগ চূড়ান্ত প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি করবে।
সবকিছু সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হলে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই সরকারি কর্মচারীরা নতুন স্কেল অনুযায়ী বর্ধিত বেতন-ভাতা তোলা শুরু করবেন। অক্টোবরে প্রজ্ঞাপন হলেও তা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হওয়ায় বিগত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া টাকা পরবর্তী কিস্তিতে সমন্বয় করে প্রদান করা হবে।
সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির বাজারে কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক বিশেষ দলিলেও পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা সংযোজন করা হয়েছে।


