https://asia24.tv


পুলিশের সামনেই নারীকে লাথি, ঘুষি মারা হয় এভাবে। ছবি: -সংগৃহীত
রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে পুলিশের উপস্থিতিতেই জাকিয়া সুলতানা নামের এক নারী ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর ও লাঞ্ছিত করার চরম অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সংঘটিত এই ঘটনার একটি মর্মান্তিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। লাঞ্ছনার শিকার জাকিয়া সুলতানা ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা-পুলিশের সদস্যদের উপস্থিতিতেই জাকিয়া সুলতানাকে রাস্তা দিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে এক যুবক দৌড়ে এসে তাকে সজোরে লাথি মারেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরও কয়েকজন যুবক সংঘবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে ওই নারীকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি দিতে থাকেন, আর পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
ভুক্তভোগী জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী দেনা-পাওনার হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে অন্যত্র চলে যান। এ ঘটনায় তিনি রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। এর জের ধরে ২৩ আগস্ট অভিযুক্ত ওই কর্মচারী বহিরাগত লোকজন নিয়ে তার দোকানে ঢুকে গালাগাল ও হুমকি দেন। শনিবার বাজারে শতাধিক লোক তাকে ঘেরাও করলে পুলিশ তাকে উদ্ধারে আসে, কিন্তু থানায় নেওয়ার পথেই পুলিশের সামনেই তার ওপর এই হামলা চালানো হয়। জাকিয়া জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ২৬টি সাব-সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় চার হাজার নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান যুক্ত। বর্তমানে দোকান বন্ধ থাকায় নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ দাবি করেন, ওই নারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলছেন এবং তিনি নিজেই লোকজন নিয়ে চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ব্যবসাসংক্রান্ত দ্বন্দ্বে ঝামেলার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষের আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার কারণে এই হেনস্তা করা হয়েছে বলে একটি গুঞ্জন ছড়ালে সংস্থাটি এক বিজ্ঞপ্তিতে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে স্পষ্ট করে। তারা জানায়, ‘আস্থা’ নামের প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেয়নি এবং এই ঘটনার সাথে অধিদপ্তরের কোনো সম্পর্ক নেই।


