https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে যান চলাচল। দীর্ঘ সময় একই স্থানে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দূরপাল্লার বাসের সাধারণ যাত্রী, চালক এবং পণ্যবাহী যানবাহনের শ্রমিকরা।
শুক্রবার সকাল থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে থেমে থেমে যানজট দেখা যায়। তবে বিকেলের পর পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। রাত বাড়ার সাথে সাথে যানজট নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর থেকে দাউদকান্দি হয়ে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। রাতে আষাঢ়িয়ার চর ব্রিজ এলাকা থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি জমে যায়। কোথাও ধীরগতিতে গাড়ি এগোলেও অধিকাংশ স্থানেই যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির ছিল। শনিবার সকালেও মহাসড়কে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসেনি।
মহাসড়কে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। ইসলামী বক্তা আলী হাসান ওসামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত তিনি গৌরীপুর এলাকায় আটকে ছিলেন। ফলে ঢাকায় নির্ধারিত অনুষ্ঠানে সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী মাহাবুব আলম জানান, সন্ধ্যায় রওয়ানা হয়েও গভীর রাত পর্যন্ত তারা দাউদকান্দি পার হতে পারেননি।
স্টার লাইন পরিবহনের চালক জলিল আহমেদ বলেন, মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের মধ্যে এক লেন বন্ধ রেখে গাড়ি পারাপার করায় যানজট এত দীর্ঘ হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় ঢাকামুখী অংশের গর্তগুলো মেরামতে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি সফিউল ইসলাম ও দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি প্রেম দাস রায় জানান, আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় সংস্কারকাজের জন্য দুই লেনের একটি লেন বন্ধ রয়েছে। ফলে একটি মাত্র লেন দিয়ে উভয়মুখী যানবাহন পালাক্রমে চলাচল করায় এই সাময়িক জট তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল নিরলসভাবে মাঠে কাজ করছে।


