https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে জমে থাকা একটি কৃত্রিম হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ অবশেষে ভেঙে গেছে। ফলে পাহাড়ি নদীগুলোতে তীব্র বেগে নতুন করে বন্যার পানি ধেয়ে আসায় নেপাল ও চীনের উদ্ধারকর্মীদের অবিলম্বে সব কাজ স্থগিত রেখে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগের ভয়াবহ হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৪৬৯ জনে দাঁড়ানোর পর এই নতুন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটল।
নেপাল পুলিশ এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিব্বত অংশে জমে থাকা প্রাকৃতিক পানির বাঁধটি ভেঙে অতিরিক্ত পানির স্রোত নিচে নেমে আসছে। বিবৃতিতে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত সকল নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ জানানো হয়।
পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় নেপাল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ৯০ মিনিটের জন্য সব ধরনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ধারণা, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে নদীর আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটতে পারে। নেপালের রাসুয়া জেলার প্রধান সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানান, সীমান্ত সংলগ্ন নদীগুলোতে পানির স্তর ক্রমাগত বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে।
একই সময়ে তিব্বত অংশেও নতুন করে প্লাবনের উচ্চ ঝুঁকির কারণে চীন তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। গত বুধবার তিব্বতের সীমান্ত হাব ‘গিরিয়ং’-এ বিশাল কাদা ও ধ্বংসস্তূপ ধসে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হয়ে এই কৃত্রিম হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানায়, কৃত্রিম হ্রদটি উপচে পড়ে বানের পানি উদ্ধারকারী দলগুলোর অভিমুখে প্রবাহিত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে যার যার অবস্থানে থেকে পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে এবং দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়া জরুরি দলগুলোকে অন্তত এক কিলোমিটার পিছিয়ে আসার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে প্রথম দফার আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। নিখোঁজদের সন্ধানে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছিল। অন্যদিকে তিব্বত অংশে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানে নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন ৫৫০ জনেরও বেশি মানুষ।
নদীর আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে সীমান্ত অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নেপাল ও চীন উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া ও নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক হলে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।


