https://asia24.tv


হরমুজ প্রণালি। ছবি: -সংগৃহীত
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান তাদের শর্তের তালিকা তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মহসেন রেজাই। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো তেহরানের অবস্থান জানতে চাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আঞ্চলিক চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানোই এই শর্তাবলির প্রধানতম লক্ষ্য বলে রেজাই উল্লেখ করেন।
লেবাননের আল মানার টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জলপথটি দিয়ে নিরাপদ শিপিং করিডর বা জাহাজ চলাচলের নতুন পথ তৈরির বিষয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ওমানের সাথে একমত হয়েছে ইরান। এই বিশেষ নৌরুটটির কিছু অংশ ওমানের জলসীমায় এবং বাকি অংশ ইরানের আওতাধীন জলসীমায় থাকবে। রেজাই স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের প্রস্তুতকৃত শর্তগুলো মেনে নেয়, তবে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজগুলো একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রস্থল চ্যানেল ব্যবহার করে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী যখন সংঘাত কমানো ও নৌপথ সচল করতে তেহরানে আলোচনা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই ইরানের এই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এল। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে জলপথ খোলার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ওয়াশিংটন যদি কোনো প্রকার ‘অপতৎপরতা’ শুরু করে, তবে ইরান তাদের সামুদ্রিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে।
আইআরজিসির সূত্র অনুসারে জানা গেছে, ওয়াশিংটন যতক্ষণ ইরানের সব সমুদ্রবন্দরের ওপর থেকে অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার না করছে, অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ না দিচ্ছে এবং আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে না নিচ্ছে, ততক্ষণ ইরান এককভাবে এই প্রণালি খুলতে দেবে না।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বৈশ্বিক চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। মে ও জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঘোষিত সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ওমান ও ইরানের নতুন চুক্তিকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় উত্তেজনা হ্রাসের বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


