https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক ল্যারি বার্নবাউমের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো কম্পিউটার বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তার অনুকরণে যন্ত্র তৈরি ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালে ডার্টমাউথ কলেজে আয়োজিত এক একাডেমিক সম্মেলনে জন ম্যাকার্থি প্রথম ‘Artificial Intelligence’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এ কারণে তাকে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক’ বলা হয়।
বর্তমানে প্রযুক্তি খাতের গণ্ডি পেরিয়ে চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প, ব্যাংকিং, গণমাধ্যম, শিক্ষা, ভাষান্তর, টেলিযোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবাসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন খাতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এআই ক্যামেরা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করছে। একইভাবে কৃষিতে মাটির গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত ফসল নির্বাচন, শিল্পে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং চিকিৎসায় ক্যানসারসহ জটিল রোগ শনাক্তে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এমআরআই ও অন্যান্য মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোগ দ্রুত শনাক্ত করা, রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি এবং জটিল রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের সহায়তা করছে এআইভিত্তিক সফটওয়্যার। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেখার সক্ষমতাসম্পন্ন (Self-learning) প্রযুক্তি ভবিষ্যতের চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২২ সালের নভেম্বরে উন্মুক্ত হওয়া চ্যাটজিপিটি এআই প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করে তোলে। ভাষা বোঝা ও স্বাভাবিকভাবে লেখা তৈরির সক্ষমতার কারণে এটি উপন্যাস, প্রবন্ধ, কম্পিউটার কোড, নাটকের চিত্রনাট্য এমনকি গানও লিখতে পারছে। গবেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এআই সাহিত্য, গবেষণা ও সৃজনশীলতাসহ বহু ক্ষেত্রে মানুষের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নতুন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কর্মসংস্থান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত এবং নৈতিকতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কর্মী নিয়োগ ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে এআই ব্যবহার করছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ এআই ব্যবহারের নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবসভ্যতার জন্য যেমন অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি এর নিরাপদ, ন্যায্য ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাও সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।


