https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই ভয়াবহ সহিংসতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যারিবীয় দেশ হাইতি। দেশটির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের দক্ষিণে কেন্সকফ নামের একটি কৃষিপ্রধান এলাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধী গ্যাংয়ের তাণ্ডবে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।
কেন্সকফের মেয়র জ্যাঁ মাসিয়োঁ জানান, সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা এলাকাটিতে ঢুকে তাণ্ডব চালায়, একের পর এক বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাসিন্দাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলায় একটি গির্জাসহ একাধিক বাসভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেয়র এই আক্রমণের জন্য মার্কিন চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্যাং জোট ‘ভিভ আনসাম’-কে দায়ী করেছেন।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্সকফ এলাকাটি পেতিওঁ-ভিলের সংযোগ সড়কে অবস্থিত, যেখানে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, বিলাসবহুল হোটেল এবং সরকারের একাধিক অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে। ফলে এলাকাটির দখল নিতে গ্যাংটি বারবার সেখানে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে আসছে। বর্তমানে রাজধানীর প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা সশস্ত্র গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সহিংসতা দমনে জাতিসংঘের সমর্থিত একটি বিশেষ বহুজাতিক বাহিনী কাজ করলেও সদস্য ও সম্পদ সংকটের কারণে তা এখনো পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাং সহিংসতার কারণে হাইতিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সহিংসতার বলি হয়ে ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ১৮৯ জন।
হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। সরকার নিশ্চিত করেছে যে কেন্সকফকে পরিত্যক্ত ছেড়ে দেওয়া হবে না এবং দ্রুতই সেখানে সরকারি কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
এক দশকেরও বেশি সময় পর দেশে প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। তবে ক্রমাগত রক্তাক্ত হামলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকায় এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।


