https://asia24.tv


নেপালের একটি মার্কিন ভিসা সেন্টারের চিত্র। ছবি: রয়টার্স ছবি: -সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা আবেদনকারীদের নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বব্যাপী সকল মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। মূলত এই প্রশিক্ষণের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকার নির্ধারণ করা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ই-মেইলের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত তারিখ স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। নতুন তারিখ পরবর্তীতে ই-মেইলেই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণের সময়সীমা প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে—এমন আবেদনকারীদের দ্রুত শনাক্ত করা। পাশাপাশি সব আবেদনকারীকে একই মানদণ্ডে সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যাপক মাত্রায় অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো কারণে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করছেন। এমনকি বৈধ অভিবাসনপ্রক্রিয়া কঠিন করতে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় চড়া ফি আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প একে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বললেও এই নীতি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
অবশ্য এসব পদক্ষেপে ইতোমধ্যে আইনি বাধা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এক মার্কিন বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা স্থগিতের ট্রাম্পি নীতি বাতিল করে রায় দেন। রায়ে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনি ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের নীতি বৈষম্যমূলক এবং বাকস্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকারের পরিপন্থী। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই কঠোর নীতি বিশ্বজুড়ে নতুন মার্কিন ভিসা প্রত্যাশীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।


