https://asia24.tv


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: -সংগৃহীত
ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সকল নাগরিকের একটাই পরিচয়—আমরা সবাই ‘বাংলাদেশি’; এখানে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই, সবাই এ দেশের ‘অধিবাসী’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিএইচটিআরএফ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে সুরক্ষিত। রাজনৈতিক সমঝোতার ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দেশের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজন সর্বসম্মতিক্রমে সম্মত হয়েছে যে, বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের মূল পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। এই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারই দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মূল ভিত্তি।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র এদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মূলধারার সাথে সমতা আনতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং কোটা ব্যবস্থা সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের অন্যান্য বহুভাষী ও বহুজাতিক রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেখানেও পৃথক ‘আদিবাসী’ সত্তার স্বীকৃতি না দিয়ে অনগ্রসরদের মূলধারায় যুক্ত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সনদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০০৭ সালে গৃহীত ‘ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস’ (ইউএনডিআরআইপি) ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ শুরু থেকেই বিরত ছিল। আইএলও কনভেনশন ১৬৯ বা এই ডিক্লারেশন কোনোভাবেই বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদারও নয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাবৃন্দ।


