https://asia24.tv


দীপু মনিকে বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সিগঞ্জ কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ছবি: -সংগৃহীত
স্বামী তৌফিক নেওয়াজকে শেষবারের মতো দেখতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি। মেয়ে তানী দীপাবলির আবেদনের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ছয়টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার পরপরই নিরাপত্তা বেষ্টনী সহকারে কারাগারের প্রধান ফটকে প্রবেশ করে কড়া পুলিশ পাহারার গাড়ি ও একটি প্রিজন ভ্যান। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে দীপু মনিকে কড়া পাহারায় বের করে আনা হয় এবং প্রিজন ভ্যানে তুলে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুন্সিগঞ্জ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দীপু মনিকে সাময়িক মুক্তির নির্দেশের সরকারি আদেশ হাতে পান তারা। সেই কাগজপত্রের ওপর ভিত্তি করে ভোরে কার্যক্রম শেষ করা হয়। পুলিশের ৩৮ জন সশস্ত্র সদস্যসহ দুটি বিশেষ গাড়ির বহর তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যায়। নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টার মাঝেই তাঁকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে আসার কথা রয়েছে।
গতকাল দুপুরে দীপু মনির আইনজীবী চার দিনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে সার্বিক দিক বিবেচনায় মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ১২ ঘণ্টার জন্য এই বিশেষ সাময়িক মুক্তির আদেশ মঞ্জুর করেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে ছিলেন দীপু মনি। অন্যদিকে তাঁর স্বামী তৌফিক নেওয়াজ কিডনি ও যকৃতের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। অসুস্থ থাকা অবস্থাতেও তিনি স্ট্রেচারে করে আদালতে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবারের সূত্র অনুযায়ী, মরদেহ প্রথমে ঢাকার কলাবাগানের নিজ বাসভবনে রাখা হয়, যেখানে দীপু মনি স্বামীকে শেষশ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মরদেহ বাদ জোহর জানাজার জন্য গুলশানের আজাদ মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বনানী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


