https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
জাতীয় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও শিল্পখাতে প্রবাহ বাড়াতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া এড়িয়ে এলএনজি আমদানি নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৯ সালের মধ্যে দেশকে বড় ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগকে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা জানান, শীতের মধ্যেই শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে এবং গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সার্বিক অবস্থার ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটবে।
সরকার বর্তমানে স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুত উৎপাদনে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া অনিয়ম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা রোধে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) পরিহার করে খোলা দরপত্রের মাধ্যমে এলএনজি ক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ আশা করছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট দ্রুত গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুত খাতে গ্যাসের চাহিদা বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি করতে ২০২৯ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১,৭৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত করার রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে। ভোলা থেকে গ্যাস আনতে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে, যা চড়া দামে এলএনজি আমদানির চেয়ে অধিক লাভজনক হবে। পাশাপাশি দেশের ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখনন জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের মোট চাহিদার একটি বড় অংশই বিদ্যুৎ ও ক্যাপটিভ উৎপাদনে চলে যায়, ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প দেশের সাথে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তেলের প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে ৯০ দিনের মজুত নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে তিনটি নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন করে সার্বিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


