https://asia24.tv


মাহদী আমিন। ছবি: -সংগৃহীত
শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য কেবল সনদ অর্জন নয়; বরং সুনাগরিক গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও কর্মক্ষম দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) আয়োজিত ‘ভাইস চ্যান্সেলরস ডায়ালগ: শেপিং দ্য ফিউচার অব হায়ার এডুকেশন’ শীর্ষক এক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও আন্দোলনের মূল আকাক্সক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষা ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা, সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি সরকারের শিক্ষা রূপকল্প তুলে ধরে জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার অংশ হিসেবে নারীদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির সুবিধা সম্প্রসারণের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
সেকেলে পাঠ্যক্রম পরিহার করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে জীবনমুখী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কারিকুলাম পরিমার্জন এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো ৩ মাস মেয়াদী ঐচ্ছিক ‘মাইক্রো-কোর্স’ চালুর পরামর্শ দেন। এছাড়া বিশ্ববাজারে তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত দুটি অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির তাগিদ দেন।
শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীন বিকাশে বিতর্ক, বিজ্ঞান ক্লাব, স্কাউটস ও স্পোর্টস কার্যক্রম সক্রিয় রাখার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান, ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন ও নিখরচায় ‘জব ফেয়ার’ আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়। অন্যদিকে মেধা পাচার রোধ করে প্রবাসী শিক্ষক ও গবেষকদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে যুক্ত করা, সামার স্কুল প্রোগ্রাম চালু ও যৌথ গবেষণার মাধ্যমে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের প্রধান শক্তি ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা তরুণ জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার ওপরই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং উন্নতকরণ ও শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান নিশ্চিতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।


