https://asia24.tv


ছবি: বিবিসির সৌজন্যে। ছবি: -সংগৃহীত
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং প্রায় ৪০০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। বন্যার পানির তোড়ে একাধিক গ্রাম ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া এলাকায় এই বিপর্যয় ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, সকালে অনুভূত একটি ভূমিকম্পের পর তৈরি হওয়া তুষারধসের বরফ গলে দ্রুত নেমে আসে। এতে ভোতে কোশি নদীতে পানির প্রবাহ তীব্র হয়ে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
দুর্যোগের পর নেপাল ও তিব্বত—উভয় পাশেই যৌথ উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিব্বত নিয়ন্ত্রণকারী চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও নেপালি কর্তৃপক্ষ বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাকবলিত অঞ্চলে থাকা ২৯১ জন বিদেশি পর্যটক এবং ৯৩ জন স্থানীয় নাগরিকের সন্ধান মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ভ্রমণ গাইডরাও রয়েছেন। সন্ধানহীন পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের নাগরিক অন্তর্ভুক্ত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানান, নিখোঁজদের তালিকায় ২৬ জন সাধারণ পুলিশ, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ ও ৪৪ জন সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাঠমান্ডুর সাথে সংযোগকারী প্রধান সড়কসহ বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগের ভয়াবহতা গত বছরের বন্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
জরুরি বৈঠক শেষে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, চিকিৎসক দল, স্কাউট ও রেডক্রসের সহায়তায় সর্বাত্মক উদ্ধারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
সূত্র: বিবিসি


