https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নবগঠিত ‘মক্কা চুক্তি’-তে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনায় প্রতিবেশী ভারতসহ অন্যান্য পরাশক্তির সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, সৌদি আরবের আমন্ত্রণে সুন্নি প্রধান দেশগুলোর এই নিরাপত্তা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি এবং সীমান্ত পরিস্থিতি ঘিরে ইতোমধ্যে ঢাকা ও নতুন দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ন্যাটোর যৌথ-প্রতিরক্ষা অনুচ্ছেদের আদলে গঠিত এই মক্কা চুক্তিতে কোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলাকে জোটের সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী সামরিক শক্তির এই জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সৌদি, তুর্কি ও পাকিস্তান দূতাবাসগুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সামরিক জোটে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে তৈরি পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে মনোযোগী থেকেছে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়া জানান, মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণ কেবল ভারত নয়; বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান, রাশিয়া ও অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়াবে। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান যে জোটে রয়েছে, বাংলাদেশ সেখানে যোগ দিলে নয়াদিল্লি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেবে না।
একইসঙ্গে অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক কোনো সামরিক জোটে জড়ানোর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে ভালো সম্পর্কের ওপর টিকে আছে। কোনো সামরিক ব্লকের সদস্য হওয়া দেশটির বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তামূলক পরিবর্তনসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এখনো আন্তর্জাতিক এই আমন্ত্রণ ও এর দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক পরিণতি মূল্যায়নে কাজ করছে।
সূত্র: রয়টার্স


