ঢাকা
২৫ আগস্ট ২০২৬
Advertise with us

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন মধ্যস্থতা

ডেস্ক রিপোর্ট
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬   ১ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন মধ্যস্থতা

ইরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।  ছবি: -সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উত্তেজনা কমানো, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং দুই দেশের সংঘাতময় অচলাবস্থা কাটিয়ে আলোচনার পথ তৈরি করতে সোমবার (২৪ আগস্ট) তেহরান সফর করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর তাঁর এই সফর ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রয়টার্স ও আলজাজিরার বরাতে জানা যায়, তেহরানে পৌঁছে সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সাথে একের পর এক দ্বিপক্ষীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তানের এই ‘গঠনমূলক মধ্যস্থতার’ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

সফরের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ট্রাম্প ও মুনিরের সাম্প্রতিক ফোনালাপ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তেহরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরাতে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের প্রভাব কাজে লাগাতে চায়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, গত জুনে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রই লঙ্ঘন করেছে। দেশটির কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই ও স্পিকার গালিবাফ উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কথা রাখার পাশাপাশি ইতিবাচক আচরণের বাস্তব প্রমাণ দিতে হবে।

চলতি বছরে এটি আসিম মুনিরের তৃতীয় ইরান সফর। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগের মাধ্যম হতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসলেও দুই দেশের গভীর পারস্পরিক অবিশ্বাস বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিপূর্বে পাকিস্তান একটি অন্তর্বর্তী শান্তি কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখলেও তা ভেস্তে গিয়েছিল। তাই এবারের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতায় অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

সংঘাতের অন্যতম মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান এই পথটি বন্ধ বা অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক বাণিজ্য চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মুনিরের আলোচনায় প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং নৌ চলাচল ঝুঁকিমুক্ত করার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আলবুসাইদিও তেহরানে একই বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসছেন।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পাকিস্তানের নিজস্ব ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় চরম আঘাত আসবে। ফলে ইসলামাবাদ এখানে কোনো নিজস্ব রাজনৈতিক লাভ না খুঁজে নিরেট মধ্যস্থতাকারী হতে চাচ্ছে। তেহরানের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় পাকিস্তান এই সংকট উত্তরণে কার্যকর সেতু হতে পারে, যদিও কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকাও এখানে তাৎপর্যপূর্ণ।

আসিম মুনিরের এই সফর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ঐতিহাসিক চুক্তি বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা না আসলেও, শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে তাঁর নিবিড় আলোচনা এবং দুই পরাশক্তির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার বিষয়টি প্রমাণ করে যে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার নতুন পথ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa