https://asia24.tv


এইচ-১বি ভিসা আবেদন ফর্ম। ছবি: -সংগৃহীত
দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে নজিরবিহীন ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার (২৪ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এই নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে আন্তর্জাতিক মেধা নিয়োগের ব্যয় আকাশচুম্বী হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) এই প্রস্তাবিত ফি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারের অনলাইনে পোস্ট করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়ার পর ৩০ দিনের গণপরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিধিটি চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে। ট্রাম্পের গত বছরের জারি করা এক জরুরি আদেশের ওপর ভিত্তি করে স্থায়ী এই বিধান তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা প্রযুক্তি খাতসহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
পূর্বে এইচ-১বি ভিসার আবেদন খরচ ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে ট্রাম্পের এই ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানায় শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। বোস্টনের এক আপিল আদালত এবং ওয়াশিংটন ডিসির আদালত বর্তমানে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা ও নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত নির্দেশ মেনে প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠান সর্বমোট ৮৫টি আবেদনের বিপরীতে এই বর্ধিত ফি প্রদান করেছিল।
এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত খাতে দক্ষ বিদেশি পেশাদারদের নিয়োগ দেন। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার সাধারণ এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজারসহ মোট ৮৫ হাজার ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়, যার মেয়াদ থাকে তিন থেকে ছয় বছর। ট্রাম্প প্রশাসন ও এই ভিসার সমালোচকদের দাবি, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো কম বেতনের বিদেশি কর্মী এনে স্থানীয় আমেরিকানদের চাকরিচ্যুত করছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী জোটগুলোর যুক্তি হলো—বিশেষায়িত কিছু পদের জন্য যোগ্য মার্কিন কর্মী না থাকায় বিশ্বসেরা মেধা আকৃষ্ট করতে এই ভিসা অপরিহার্য।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত কঠোরতার কারণে গত বছর এইচ-১বি ভিসার নিবন্ধন প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজারে নেমে এসেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশ এবং ২০২৩ সালের (৭ লাখ ৯৪ হাজার) তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই জোরদার এবং উচ্চ বেতনপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করছে প্রশাসন।


