https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে দেশের ওষুধ খাতে উৎপাদন ব্যয় ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে সর্বক্ষণ ডিজেল ও জেনারেটরের ওপর নির্ভর করায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে লোকসান এড়াতে ওষুধের মূল্য সমন্বয় বা বাড়ানোর বিকল্প থাকবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (বাপি)।
সোমবার (২৪ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বাপি কার্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সঙ্গে আয়োজিত ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান সংগঠনের মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান।
বাপি মহাসচিব বলেন, ওষুধ উৎপাদনে বিদ্যুৎ সংযোগ মাঝপথে বিচ্ছিন্ন হলে পুরো প্রক্রিয়ার কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে ভারী ইউপিএস ও উচ্চমূল্যের ডিজেলচালিত জেনারেটর চালু রাখতে হয়। এতে সরকারি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের স্বাভাবিক দর ১৫ টাকা হলেও বিকল্প ব্যবস্থার কারণে বর্তমানে শিল্পভেদে প্রকৃত খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪২ টাকা পর্যন্ত।
সভায় ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাপির সাবেক মহাসচিব ডা. জাকির হোসেন তাঁর নিজস্ব কারখানার উদাহরণ দিয়ে জানান, আগে যে ওষুধ কারখানায় মাসে ৫২ লাখ টাকার জ্বালানি খরচ হতো, বর্তমান সংকটে তা বেড়ে প্রায় ৮৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
মতবিনিময় সভায় আরও বলা হয়, ওষুধের চূড়ান্ত মূল্য কেবল কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে না; জ্বালানি, প্যাকেজিং, মাননিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণার সার্বিক ব্যয়ের সাথে সমন্বিত হয়। গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) অনুযায়ী আগের চেয়ে অনেক বেশি ইমপিউরিটি টেস্ট করতে হচ্ছে, যার রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
সমিতির পক্ষে স্পষ্ট জানানো হয়, জ্বালানির কারণে যে অস্বাভাবিক উৎপাদন খরচ বাড়ছে, তা দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিজস্ব মুনাফা থেকে বহন করা সম্ভব নয়। এ অবস্থা বজায় থাকলে ওষুধের দাম বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না।


