https://asia24.tv


কলকাতার বিভিন্ন হোটেল ছাড়ছেন পর্যটকেরা। ছবি: -সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ নয়জনের করুণ মৃত্যুর পর পর্যটকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতে অনেক পর্যটক ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার অনেকে অগ্রিম সফর বাতিল করছেন।
মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও কলিন স্ট্রিট এলাকার স্থানীয় হোটেল অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রাভেল এজেন্টরা নিশ্চিত করেছেন যে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর অনেক পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই কলকাতা ত্যাগ করছেন। অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই শুক্রবারে নিউ মার্কেট এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে পৌরসভা ও স্থানীয় দমকল বিভাগ। অভিযানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা ও নানা অনিয়মের অভিযোগে ঝুঁকিপূর্ণ ১১টি হোটেল তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অধিকাংশ হোটেলেই ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি মানা হয়নি এবং লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবসা চালানো হচ্ছিল। হোটেল খালি করার প্রশাসনিক নোটিশ পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক পর্যটক আগাম বুকিং থাকা সত্ত্বেও হোটেলে উঠতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ড রোধে কড়া পদক্ষেপ হিসেবে এলাকার আরও ১৭টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে সেগুলোতেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ও ধারাবাহিকভাবে হোটেল খালি করার অভিযানের মুখে পর্যটকরা ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে অনেক পর্যটক ইতিমধ্যেই নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।


