https://asia24.tv


সাগরপথে ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপযাত্রা। ছবি: -সংগৃহীত
বেসরকারি সংস্থা ‘এসওএস মেদিতারানে’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় পথ ব্যবহারকারী মোট অভিবাসীদের মধ্যে ২৬ শতাংশই দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের নাগরিক, যা একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ। অভিবাসীদের তালিকায় অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে ইরিত্রিয়া (১৬%), সুদান (১৩%), পাকিস্তান (১২%) এবং মিসর (৯%)। এছাড়া নাইজেরিয়া, গিনি ও মালি থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ এই পথ পাড়ি দিচ্ছেন।
চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ১,৬৬৮ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ের (১,০৩৫ জন) তুলনায় প্রাণহানির এই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় বিপজ্জনক রুটে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিখোঁজ ও নিহত ৮৭২ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া ও টিউনিশিয়া থেকে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপ হয়ে ইউরোপে ঢোকার এই পথটি অভিবাসীদের কাছে সবচেয়ে পরিচিত ট্রানজিট ও যাত্রার মাধ্যম। তবে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা, সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উদ্ধার তৎপরতায় বাধার কারণে চলতি বছরের শুরু থেকেই এই রুটে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে লিবিয়া ও টিউনিশিয়া উপকূল ছেড়ে ২৬,৬০০ জনেরও বেশি অভিবাসী ইউরোপের বিভিন্ন উপকূলে পৌঁছাতে পেরেছেন। সার্বিকভাবে ইউরোপে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও সমুদ্রে নিহতের হার বহুগুণ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কড়া নজরদারি ও সীমান্ত কড়াকড়ির কারণে সীমান্ত অতিক্রমের পথগুলো যেমন সংকীর্ণ হচ্ছে, তেমনি সমুদ্রযাত্রা হয়ে উঠছে আরও ভয়াবহ। ফলে অল্পসংখ্যক মানুষ কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেও মাঝদরিয়ায় সলিলসমাধি ঘটছে শত শত স্বপ্নসন্ধানী মানুষের।


