https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। চালুর কিছুদিন পরই পুনরায় এই টার্মিনালটি বন্ধ হওয়ায় দেশজুড়ে সার্বিক জ্বালানি সরবরাহে আবারও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পেট্রোবাংলার দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, আজ বুধবার বিকেল ৩টার পর থেকে টার্মিনালটি থেকে কোনো গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে একমাত্র সামিটের এফএসআরইউ থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। এর ফলে দেশজুড়ে সর্বমোট গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে দাঁড়িয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। কারণ, সারাদেশে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদিনের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা আনুমানিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র সরবরাহের ঘাটতি কাটিয়ে পরিস্থিতি সামান্য স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এই আকস্মিক বন্ধ হওয়ার ঘটনায় নতুন বিপর্যয় নেমে এলো। এমনিতেই দেশের শিল্পকারখানাগুলো চরম নিম্নচাপের গ্যাস সংকটে ভুগে উৎপাদনে ব্যাহত হচ্ছে; কারণ যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে তার বড় অংশই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চালান করতে হচ্ছে।
৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার ক্ষমতার অধিকারী এক্সিলারেটের এই টার্মিনালটি গত ২১ জুলাইয়ের অগ্নিকাণ্ড ও জটিল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এতদিন অচল হয়ে ছিল। পরবর্তীতে ৬ আগস্ট আংশিকভাবে চালু হলেও গত ১৪ আগস্ট আবারও বিঘ্নিত হয়ে ১৫ আগস্ট কোনোমতে সচল করা হয়। তবে এবার মজুদ সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দুইটি টার্মিনাল মিলে আগে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি প্রক্রিয়া করা গেলেও এক্সিলারেট বন্ধ থাকায় বর্তমানে সরাসরি ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট জোগান কমে গেছে। নতুন আমদানিকৃত এলএনজিবাহী জাহাজ না পৌঁছানো পর্যন্ত দেশকে পুরোপুরি সামিটের ওপর ভরসা করে থাকতে হচ্ছে।
সরকারি এলএনজি ক্রয় পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, নতুন চালান না আসা পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী ২৩ আগস্টের পূর্বে এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুনরায় চালু হওয়ার সুযোগ খুবই কম।


