https://asia24.tv


প্রতীকী ছবি। ছবি: -ফাইল ছবি
বাংলাদেশে আত্মহত্যা আশঙ্কাজনক জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে দেশে ৭৬ হাজার ৩৬১ জন আত্মহত্যা করেছেন। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে অন্তত ১৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমিত হিসাবের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) আইসিডিডিআরবি, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘লাইভ লাইফ: সুইসাইড প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৮৮৬টি আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি যশোরে, যার পরেই রয়েছে ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর ও বগুড়া। পারিবারিক কলহ, বিষণ্ণতা, সামাজিক ও মানসিক চাপ এবং পরীক্ষার ফলের কারণে মূলত তরুণ ও উঠতি বয়সীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
সভায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান বাতিল অথবা দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানানো হয়। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ব্যক্তি তীব্র মানসিক সংকটে থাকেন; তাঁকে শাস্তি না দিয়ে আইনি ঝামেলামুক্ত পরিবেশে চিকিৎসা ও সহানুভূতি প্রদান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে তাঁরা জানান, অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় সেসব দেশে আত্মহত্যার হার অনেকাংশে কমেছে।
এর পাশাপাশি কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক ও আগাছানাশকের সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সভায় বক্তারা হাসপাতাল, থানা ও স্থানীয় কমিউনিটির সমন্বয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূলে সহজলভ্য করার প্রতি বিশেষ তাগিদ দেন।


