https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
১৯৮৪ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন পূর্ণিমা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মায়ের অনুপ্রেরণায় চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। প্রথম ছবিতেই দর্শকের নজর কাড়লেও ‘যোদ্ধা’ সিনেমার সাফল্যের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের পাশাপাশি অভিনয়শৈলীর স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াত পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ছোট পর্দার নাটকেও রেখেছেন সমান শক্তিশালী উপস্থিতি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাফল্যের পাশাপাশি কঠিন সময়ও এসেছে। একসময় হতাশা তাঁকে অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে দিলেও তিনি নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করেন উপস্থাপনায়। সেখানেও দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন।
নিজের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মায়ের বলে মনে করেন পূর্ণিমা। তিনি বলেন, “আমি আজীবন আমার মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। তিনি তাগিদ না দিলে আমি কখনো অভিনয়ে আসতাম না, পূর্ণিমা হয়ে উঠতাম না।”
বর্তমানে অভিনয়ে আগের মতো নিয়মিত না হলেও পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনকে বেশি সময় দিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। জন্মদিন উপলক্ষে তিনি জানান, সবসময় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল, এখন সেই সুযোগটিই উপভোগ করছেন।
তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি পূর্ণিমা। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমার কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে তা এখনো আটকে রয়েছে। কবে সেই জট কাটবে, তা নিজেও জানেন না বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য আশাবাদী পূর্ণিমা। তাঁর বিশ্বাস, ভালো গল্পই দর্শককে আবার প্রেক্ষাগৃহমুখী করবে। তিনি বলেন, “দর্শক ভালো গল্প দেখতে চান। গল্প, অভিনয় এবং নির্মাণ—এই তিনটি বিষয় ঠিক থাকলেই একটি সিনেমা সফল হতে পারে।”
জন্মদিন উপলক্ষে এবারও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। চ্যানেল আই তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছে। প্রিয় সহকর্মীদের শুভেচ্ছা, লাল গালিচা ও নানা চমকে সাজানো এই আয়োজন তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছে।
পূর্ণিমার ভাষায়, “এমন উপহার সত্যিই আমাকে চমকে দিয়েছে। তবে দিনের শেষটা কাটাতে চাই পরিবারের সঙ্গে। কারণ, এখন আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ প্রিয় মানুষদের সঙ্গে নির্ভার কিছু সময় কাটানো।”


