https://asia24.tv


সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী ইরানে হামলার পর একটি অজ্ঞাত স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ। ছবি: রয়টার্স ছবি: -সংগৃহীত
লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার গোষ্ঠীটি জানায়, সৌদি আরবের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের ট্যাঙ্কার দুটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। জিজান বন্দরের কাছে ‘এনসেলিয়া’ আক্রান্ত হয়ে বিপদ সংকেত পাঠালেও ‘লায়লা’য় হামলার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর ভারত ও চীনগামী কয়েকটি সৌদি ট্যাঙ্কার পথ পরিবর্তন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের বাব এল-মান্দেব প্রণালি সংলগ্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথিদের এই পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরেও অবরোধ তৈরি করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ অচল করে দেওয়ার ইরানি কৌশলের অংশ এটি। সৌদি আরব হরমুজ এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানির চেষ্টা করছিল। কিন্তু এই পথও বন্ধ হলে তাদের সুয়েজ খাল ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে জাহাজ চলাচলে বাধ্য হতে হবে, যা মার্কিন বাহিনীর ওপর বাড়তি সামরিক চাপ সৃষ্টি করবে।
ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুশিয়ারি দেন—ইরান হরমুজে কোনো জাহাজে হামলা চালালে দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। জবাবে ইরানও ওই অঞ্চলের তেল-গ্যাস স্থাপনা ধ্বংসের হুমকি দিয়ে এক ফোটা তেলও রপ্তানি হতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে টানা ১২তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বুশেহরসহ বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।


