https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
চলমান আঞ্চলিক উত্তেজন ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক বড় সাফল্যের খবর জানাল মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান। যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝে দেশটির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এক বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসের খনির সন্ধান মিলেছে। নতুন ওই খনিতে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট বা ২১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ফার্সে এই খনির সন্ধান মিলেছে বলে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলকে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, নতুন এই খনিটিতে যে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে, সেটিতে হাইড্রোজেন সালফাইড এবং অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় উপাদানের মাত্রা বেশ কম। ফলে খনিটি থেকে গ্যাসের উত্তোলন তুলনামূলকভাবে বেশ সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
উল্লেখ্য, জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ইরান প্রাকৃতিক গ্যাসেও বেশ সমৃদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত দেশটির গ্যাস খনিগুলো থেকে প্রতিদিন ৬৫০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস উত্তোলন করা হতো।
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের মোহসিন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত খনিটি থেকে সম্ভবত সম্পূর্ণ গ্যাস তোলা সম্ভব হবে না। ২১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাসের মধ্যে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ১৬০ বিলিয়ন কিউবিক মিটারেরও বেশি।
এমন এক সময়ে ইরানে এই গ্যাসের খনি আবিষ্কৃত হলো, যখন মার্কিন বাহিনীর মুহুর্মুহু আক্রমণে দেশটির তেল ও গ্যাস শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে গ্যাসের দৈনিক উত্তোলন। ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত জুলাই মাসে ইরান প্রতিদিন গড়ে মাত্র ২৩০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস উত্তোলন করতে পেরেছে।
সূত্র : ব্লুমবার্গ, এনডিটিভি


