https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
তেহরানের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের সবচেয়ে তীব্র অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর বার্তা দিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা মধ্যস্থতা আলোচনা থমকে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, চুক্তির সুযোগ হাতছাড়া করায় ইরানকে এখন নজিরবিহীন আর্থিক অবরোধের মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো দেশ যদি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক, আর্থিক বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ সচল রাখে, তবে সেই দেশকেও চরম মূল্য দিতে হবে। তেলের অবৈধ সরবরাহ, মুদ্রা বিনিময় ও বেনামী মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বন্ধ করার তাগিদ দিয়ে তিনি একে একটি অর্থনৈতিক “ডি-ডে” হিসেবে আখ্যা দেন। আমেরিকান প্রশাসনের অধীনে বেশ কিছু দিন ধরেই ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র মাধ্যমে তেহরানের তেল ও নৌপরিবহন খাতের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই কড়া নিরাপত্তামূলক বক্তব্যকে পাত্তা দিচ্ছে না ইরানের গণমাধ্যমগুলো। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, সামরিক কৌশলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে আমেরিকান প্রশাসন এমন পথ বেছে নিয়েছে। এছাড়া তাসনিম সংবাদ সংস্থাসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, এ ধরনের হুমকি তাদের জন্য নতুন কিছু নয় এবং দীর্ঘ দিন ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পর্যাপ্ত দক্ষতা তাদের অর্জিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত সফলতা না আসায় ওয়াশিংটনের মধ্যকার তৈরি হওয়া ক্ষোভ থেকেই এমন জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এবার ইরান থেকে পণ্য কেনা অব্যাহত রাখা চীন, তুরস্ক বা ইরাকের কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর দ্বিতীয় ধাপের কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে চীনের মতো দেশের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই ধরনের পদক্ষেপ কার্যকর করা আমেরিকান অর্থনীতির জন্যও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের সাথে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা সেখানকার আর্থিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
সব মিলিয়ে আমেরিকান প্রশাসনের তরফ থেকে আসা নতুন এই চরম অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কোনো দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই বিশ্ববাসীর কড়া নজর রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা


