https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে যাওয়ার পর কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কানাডাকে আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্য না হয়েও সব সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন, বাণিজ্যিক লড়াইয়ে নেমে কানাডা মনে করছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারবে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে দুই দেশের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্যিক আলোচনা কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পরপরই মার্কিন প্রশাসনের নতুন এই শুল্কের ঘোষণা আসে। ট্রাম্পের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে মার্কিন কৃষকদের ওপর কানাডা চড়া শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে। তাঁর দাবি, সদ্য ভেঙে যাওয়া আলোচনায় কানাডা প্রত্যাশার চেয়ে অতিরিক্ত সুবিধা দাবি করলেও বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো নমনীয় প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারেনি।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘ভুল হিসাব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। কানাডা তাদের স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর এই শুল্ক কার্যকর করবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, “এটি আমাদের দেশের অর্থনীতির ওপর সরাসরি আক্রমণ, এবং আক্রমণের শিকার হলে তা যুদ্ধে রূপ নেয়।”
প্রস্তাবিত ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার সমমূল্যের রফতানি পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যাওয়া মোট আমদানির আনুমানিক ৫ শতাংশ। অ্যালুমিনিয়াম, অ্যালকোহল, সিমেন্ট, তৈরি পোশাক এবং হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাত এই শুল্কের আওতায় আসছে। কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। অন্টারিও ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়াসহ একাধিক প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা ট্রাম্পের নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমেরিকার অন্যায্য বাণিজ্যিক শর্ত মেনে নেওয়া মানে কানাডাকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করা, যা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্পের শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে নতুন করে অস্থিরতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কানাডা ও মেক্সিকোর সাথে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিটি ১৬ বছরের জন্য নবায়নে অপারগতা প্রকাশ করায় পরিস্থিতি জটিল রূপ ধারণ করেছে। কার্নি জানান, কানাডার বাণিজ্যিক স্বাধীনতা খর্ব করে এমন কোনো শর্ত মেনে চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছানো তাঁর সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।


