https://asia24.tv


রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: বাসস ছবি: -সংগৃহীত
রোহিঙ্গা সংকটের এক দশক অতিক্রান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে টেকসই ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ১২ লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষের এই বিশাল সংকট মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তার বোঝা একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব নয়। বাংলাদেশ তার মানবিক সীমার সর্বোচ্চ দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ালেও এই সংকট নিরসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে কেবল পাশে থাকার আশ্বাস না দিয়ে যৌথ দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘অক্সফাম ইন বাংলাদেশ’-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছর: মানবিক সহায়তা থেকে টেকসই সমাধানের পথে’ শীর্ষক জাতীয় সুধী সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা আশ্রয়ের ১০ বছর পূর্তি কোনো উদযাপনের বিষয় নয়, বরং এটি বিশ্বনেতাদের নিষ্ক্রিয়তার মুখোমুখি হয়ে নতুন করে জবাবদিহি ও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার সময়। টেকসই সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে এই সংকটকে আরও এক দশক টেনে নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। একজন শরণার্থী শিশুর ক্ষেত্রে ক্যাম্পের ১০ বছর মানে তার পুরো শৈশব ও ভবিষ্যৎ হারিয়ে যাওয়া। ফলে শরণার্থী শিবিরের অনিশ্চিত জীবন কোনো জাতির জন্য স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। এই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়কে ২০ বছরে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।
২০১৭ সালের সংকটের পর থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সীমাবদ্ধতা, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা ও অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় অবকাঠামো, পরিবেশ ও কক্সবাজারের জনগণের জীবনযাত্রার ওপর যে অভূতপূর্ব চাপ তৈরি হয়েছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ আশ্রয় ও মানবিক সুরক্ষা বজায় রেখেছে, কিন্তু সংকটটি বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি। তাই এর একক সমাধানও বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলোর অর্থায়ন ক্রমশ কমে আসার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করেন, জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানে আর্থিক ঘাটতি দেখা দিলে ত্রাণ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি ও পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর। তাই বিশ্ব সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা প্রদান প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই স্থবির বা বন্ধ না হয়ে যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে তিনি কক্সবাজারের স্থানীয় অধিবাসীদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে বিশেষ প্যাকেজ চালুর জোর দাবি জানান।
সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, কেবল ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ জন্মভূমি রাখাইনে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী পথ। তিনি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় দ্রুত ও সঠিক উপায়ে তালিকা যাচাই সম্পন্ন করা এবং ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশুদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার তাগিদ দেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বেইজিংয়ের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবে প্রতিফলিত হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নতুন গতি পাবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটকে জীবন্ত রাখতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। উক্ত সংলাপে ডিক্যাব নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।


