https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ চিনির দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের চলমান সংকটের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়াই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে দুই সপ্তাহ পূর্বে প্রতি মণ (৩৭.৩২ কেজি) চিনি ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বেচাকেনা হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি না ঘটলে আগামীতে চিনির দর আরও বাড়তে পারে।
তবে বাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোক্তারা এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বিশ্ববাজারের অজুহাতকে নাকচ করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে অপরিশোধিত চিনির বুকিং দর স্থির থাকলেও দেশীয় বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজারজাতকারী বড় মিলগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূল্য বাড়াচ্ছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতৃত্বের দাবি—চাহিদা ও সরবরাহের প্রাকৃতিক নিয়মেই দামের ওঠানামা ঘটছে, এতে কোনো অসাধু চক্রের হাত নেই।
বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামের স্থানীয় অনেক কারখানা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে, কোনোটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আগে উৎপাদিত মজুত দিয়ে সরবরাহ সচল রাখা হলেও সেই জোগান এখন তলানিতে। এছাড়া পূর্বে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরবরাহের বড় ভূমিকা রাখা এস আলম গ্রুপের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় পুরো বাজার এখন ঢাকাকেন্দ্রিক রিফাইনারিগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। রাজধানী থেকে দূরবর্তী চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহনে যে বাড়তি খরচ হচ্ছে, তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে পাইকারি মূল্যে।
এদিকে বাংলাদেশী বড় শিল্পগ্রুপগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্যের ফলে তৈরি হওয়া সিন্ডিকেট প্রথাকেও দায়ী করছেন অনেকে। আমদানিতে শিথিলতা আনায় একসময় ছোট ও মাঝারি আমদানিকারকেরা যুক্ত হলেও পরবর্তীতে বড় কোম্পানিগুলোর অনৈতিক প্রতিযোগিতায় পড়ে তারা বাজার ছাড়তে বাধ্য হয়। ফলে নিয়ন্ত্রণ আবারও হাতেগোনা কয়েকটি রিফাইনারির কব্জায় চলে গেছে।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাব (কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)-এর প্রতিনিধিরা মনে করছেন, প্রশাসনিক তদারকির অভাব ও উদাসীনতাই ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারী মূল্য নির্ধারণে উৎসাহিত করছে। সরকার কঠোর নজরদারি চালালে অল্প কয়েকটি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা অসম্ভব নয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্পষ্ট করেছে যে বাজারে নিয়মিত পর্যবেক্ষণমূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে। পাইকারি বাজারে চিনির মূল্যের ওঠানামার সুনির্দিষ্ট প্রভাব খুচরা পর্যায়ে কতটুকু পড়ছে—তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে অসংগতি মিললে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


