https://asia24.tv


কলকাতার শিখা হোটেল। ছবি: -সংগৃহীত
অগ্নিনিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় মধ্য কলকাতার ২৫টি হোটেল ও রেস্তোরাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, এর আগেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিকবার নোটিশ ও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরেও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবার চূড়ান্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুরসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট ২৫টি হোটেল ও রেস্তোরাঁকে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে—কেন তাদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল ও প্রতিষ্ঠান বন্ধের আদেশ দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে রাজ্য ফায়ার সার্ভিসের ডিভিশনাল ফায়ারিং অফিসারদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে অগ্নিনিরাপত্তা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি মধ্য কলকাতার একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পুরো শহরের বাণিজ্যিক ভবন ও হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থানে যায় প্রশাসন। জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ড ঘটা ভবনটিতে একাধিক ছোট হোটেল অনিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছিল।
ওই দুর্ঘটনার পরপরই রাজ্য সরকারের নির্দেশে নগরজুড়ে বিভিন্ন ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত হয়। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই গত ২১ আগস্ট ১৬টি এবং পরবর্তী শুক্রবার আরও ১৩টি নিয়ম লঙ্ঘনকারী হোটেল ও রেস্তোরাঁ ফাঁকা করে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় পুরসভা।
এদিকে শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে জরুরি নির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের কার্যকারিতা ও স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরখ করতে বিশেষ পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে। পুরবিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও মধ্য কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও মার্কুইস স্ট্রিট সংলগ্ন বন্ধ থাকা কয়েকটি হোটেল এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না এবং নিয়ম না মানলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ায় স্থায়ীভাবে সিলগালা করা হবে।


