https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৬৯ শতাংশ। টাকার অঙ্কে যা ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাসেও এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল একই। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দেশের অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য খাতসহ সরকারের ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এই সময়ে বরাদ্দের এক টাকাও খরচ করতে পারেনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এডিপির এই ধীরগতির তথ্য জানা গেছে।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৬৪৪.৬৬ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, পূর্ববর্তী বছরগুলোর জুলাই মাসের তুলনায় এবার বাস্তবায়ন বেশ ধীর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ হার ছিল ১.০৫ শতাংশ (২,৯২২ কোটি টাকা), ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১.২৭ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ০.৯৬ শতাংশ।
পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডির কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত অর্থবছরের শুরুতে মন্ত্রণালয়গুলো প্রকল্প প্রস্তুতকরণ ও প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যস্ত থাকে। ফলে শুরুর দিকে অর্থব্যয় তুলনামূলক কম থাকে এবং সময় বাড়ার সাথে ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চালুকৃত অর্থবছরের প্রথম মাসে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের (বরাদ্দ ৬,০১৪ কোটি টাকা) এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের (বরাদ্দ ৫,৪৯৯ কোটি টাকা) উন্নয়ন ব্যয়ের খাত শূন্য। এছাড়াও সেতু বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, শিল্প, ধর্ম, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক, পররাষ্ট্র এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জুলাইয়ে বরাদ্দের কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি।
এর বিপরীতে এডিপিতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ (৯৫১ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ২.৮৫%) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ (২৬৫ কোটি টাকা)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১৭২টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সর্বমোট ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।


