https://asia24.tv


প্রতীকী ছবি। ছবি: -ফাইল ছবি
ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববাজারে ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ সেন্ট (০.১%) বেড়ে ৮৭.১৬ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১.২৯ ডলারে। টানা কয়েক দিন মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহে উভয় বেঞ্চমার্কেই তেলের দর প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে।
সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এডনক (ADNOC)-এর দুটি জাহাজে হামলার পর। আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ওয়াম’ এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে। এর পরপরই ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান হোসেইন তাইয়েব দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের চরম ঝুঁকিতে বিশ্ববাজার।
তবে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগে তেলের দাম বাড়লেও চাহিদা কমে যাওয়ার দুর্বল পূর্বাভাস দরবৃদ্ধি খানিকটা আটকে রেখেছে। চলতি সপ্তাহে জ্বালানি সংস্থা আইইএ (IEA) এবং ওপেক (OPEC) বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়েছে। তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের সাপ্তাহিক মজুত গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যা বিশ্ববাজারে বিপরীতমুখী চাপ তৈরি করছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেসিএম (KCM)-এর প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেন, “জ্বালানি বাজার বর্তমানে দুটি ভিন্নমুখী শক্তির মুখোমুখি। একপাশে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বন্ধের আতঙ্ক যা দাম বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক চাহিদার মন্দা যা বড় দরপতনের ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করছে।”


