https://asia24.tv


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: -ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি বা শেষার্ধে (সম্ভাব্য ২২–২৩ আগস্ট) দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের নয়াদিল্লি যেতে পারেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম ভারত সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই দ্বিপাক্ষিক সফরের খবর নিশ্চিত করেছে।
যদিও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি এবং কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মুখ খোলেননি, তবে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
এনডিটিভির তথ্যমতে, সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো স্থান পাবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘ব্রিকস আউটরিচ সেশনে’ও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির নতুন কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পলাতক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে হস্তান্তরের দাবি জানায়। সম্প্রতি দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার একটি ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলে ভারত সরকার ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে।
তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। সম্প্রতি কূটনৈতিক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার বেশ কিছু লক্ষণও দেখা গেছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া গত ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, যেখানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রথম বৈঠকটি দ্বিপক্ষীয় বিরোধপূর্ণ ইস্যুগুলো সমাধানের পথ খোঁজার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


