ঢাকা
২০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
তরুণদের দক্ষতা শুধু চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না : তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম জামালপুরে আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা: ৭ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:  ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনার কাজ হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামালপুরে জোড়া হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন নতুন রাষ্ট্রপ্রধানকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
Advertise with us

জামালপুরে আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা: ৭ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬   ১০ বার পঠিত
জামালপুরে আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা: ৭ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন

ছবি: -প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রায় এক দশক আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত চাচা-ভাতিজা জোড়া হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে সাখাওয়াত (৩২), তহিজলের ছেলে মো. সোহেল (৩০), আছর শেখের ছেলে আল আমিন (৩০), মৃত ভোলা শেখের ছেলে সাদ্দাম (৩০), কামালের ছেলে উজ্জল (৩০), সোজা মিয়ার ছেলে অন্তর (৩০) ও শহিদুলের ছেলে ফয়জুর (৩২)।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- একই এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে চাঁন মিয়া (৫০), আছর শেখের ছেলে মো. জিয়াউর (৪৫), ভোলার ছেলে শাহ আলম (৪১), রফিকুল ইসলামের ছেলে কাওসার (২৯), তারা মিয়ার ছেলে রিফাত (৩১), আব্বাস আলীর ছেলে সুমন (৩১) ও মৃত নাটু শেখের ছেলে মোস্তফা (৪৯)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ। মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে পুলিশ রাস্তার পাশে থাকা প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চায়। তাদের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে।

পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মহর ও স্বপনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার সমর্থক সাখাওয়াত ও সোহেল। পরে সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নেওয়া হয়। সেখানে মোস্তফার লোকজন মহর আলী ও তার ভাজিতা স্বপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পরে জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে দুইজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহর আলী (১৯) গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে ও মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ভাতিজা স্বপন মিয়া (১৬) একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা। এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় এর আগে ৪২ জন এবং আজ ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যর ভিত্তিতে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাত জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ আদালাত যে রায় দিয়েছে সেই রায়ে আমি খুশি। আমি সরকারের কাছে আবেদন করি সরকার যাতে এই রায় দ্রুত কার্যকর করেন।

 

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম দিদার ও আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমানুল্লাহ আকাশ, অ্যাডভোকেট ওয়াব আলী ও অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa