ঢাকা
২০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
তরুণদের দক্ষতা শুধু চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না : তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম জামালপুরে আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা: ৭ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:  ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনার কাজ হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামালপুরে জোড়া হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন নতুন রাষ্ট্রপ্রধানকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
Advertise with us

মোবাইল সেবার খরচ কমাতে নতুন পরিকল্পনা বিটিআরসির

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬   ১০ বার পঠিত
মোবাইল সেবার খরচ কমাতে নতুন পরিকল্পনা বিটিআরসির

ছবি: -প্রতিনিধি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে মোবাইলে কথা বলার খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে আয়োজিত গণশুনানিতে গ্রাহকের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সাধারণ গ্রাহক, প্রযুক্তিবিদ ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা মোবাইল সেবার উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ডাটা ও ভয়েস কলের দাম কমানোর জোরালো দাবি জানান।

গণশুনানিতে দেশের টেলিযোগাযোগ সেবার মান, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, কলড্রপ, ভয়েস ও ডাটার মূল্য, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, সিম নিবন্ধন, এনইআইআরসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ও প্রশ্নের জবাব দেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা।

গণশুনানিতে জামালপুর থেকে অংশ নেওয়া রকীব রায়হান কলরেট কমানোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দাবি জানান।

জবাবে বিটিআরসি জানায়, বর্তমানে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন ট্যারিফ ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন রেট বা ফ্লোর প্রাইস কমানোর বিষয়ে কাজ চলছে।

টেলিটকের নেটওয়ার্ক নিয়ে একই শুনানিতে বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিসুল আলম পারভেজ বলেন, রোলআউট বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি হাওরসহ দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক জোরদারে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে টেলিটক।

গাজীপুর থেকে তৌহিদ হাসান অভিযোগ করেন, মাস্কিং ছাড়া আনমাস্কড এসএমএস আসায় স্প্যাম বার্তা শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদেশি ওটিপি পেতেও দেরি হচ্ছে।

জবাবে বিটিআরসি জানায়, সব ধরনের বার্তা পর্যায়ক্রমে মাস্কিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে বিদেশি ওটিপি পেতে কখনো কখনো বিলম্ব হতে পারে।

ডাটা প্যাকেজের ভিন্নতা নিয়ে আনোয়ার সাদাতের প্রশ্নের জবাবে কমিশন জানায়, প্রতিটি প্যাকেজের শর্ত গ্রাহকদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নেটওয়ার্ক সচল রাখা নিয়েও জানতে চান গ্রাহকেরা। এ বিষয়ে বিটিআরসি জানায়, নেটওয়ার্ক সচল রাখার সক্ষমতা বাড়াতে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশের মোবাইল টাওয়ারের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মোবাইল টাওয়ারের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে গণশুনানিতে। ফুয়াদ হাসান খানের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়মিত পরিমাপ করা হয়।

সংস্থাটির দাবি, এসব পরিমাপের ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত বিকিরণের মাত্রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের তুলনায় অনেক নিচে রয়েছে। ফলে বিদ্যমান মাত্রা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ।

গণমাধ্যমকর্মী মো. এমদাদুল হকের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি জানায়, গ্রাহকেরা কলসেন্টার ১০০, ওয়েবসাইট ও জিআরএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারছেন।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কমিশনে মোট ১৩ হাজার ৯টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৭৯টি, অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৭০ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে এ হার নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বিটিআরসি। দ্রুততার সঙ্গে শতভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তি করাই কমিশনের লক্ষ্য।

এ ছাড়া সেবার মান বা কোয়ালিটি অব সার্ভিস উন্নয়নের অংশ হিসেবে খুব শিগগির বিটিআরসির ওয়েবসাইটে মাসভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও কর্মকর্তারা জানান।

প্রতি মাসে হবে গণশুনানি

গণশুনানিতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০২৬)-এর ৮৭ ধারা অনুযায়ী এখন থেকে কমিশন প্রতি মাসে অন্তত একবার গণশুনানির আয়োজন করবে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে জনগণ সরাসরি তাদের প্রশ্ন, মতামত, পরামর্শ ও উদ্বেগ তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে গণশুনানিতে পাওয়া গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো কার্য-পর্যবেক্ষণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সেগুলোর সমাধান ও অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

বিটিআরসি জানায়, এবারের গণশুনানিতে অংশ নিতে গত ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে মোট ২ হাজার ৯৯০ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৭ জন বিভিন্ন পেশাজীবী, ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী এবং ১৭২ জন নারী গ্রাহক ছিলেন।

নিবন্ধিত গ্রাহকদের জমা দেওয়া প্রশ্নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ও প্রশ্ন এসেছে ট্যারিফ, ডাটার মেয়াদ, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, সিম নিবন্ধন, এনইআইআর এবং সেবার মান নিয়ে।

গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন। অনলাইনে আয়োজিত এ গণশুনানিতে গ্রাহক, মোবাইল অপারেটর, বিভিন্ন অংশীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ জানান, ২০২৫ সালের গণশুনানিতে মোট ১ হাজার ৭৫৬টি অভিযোগ ও প্রশ্ন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে বিটিআরসির এখতিয়ারভুক্ত ২২১টি বিষয় চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট চার বিভাগে সমাধানের জন্য পাঠানো এবং নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa