https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট পিটিশন বা অন্য কোনো মামলা প্রত্যাহার না করলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে আর কোনো ধরনের নীতি সহায়তা কিংবা প্রণোদনা দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে একটি কঠোর রূপরেখা তৈরি করে দেশের সব ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্পষ্ট নির্দেশনা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট বিভাগের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এই বিশেষ সার্কুলারে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত নানা প্রণোদনা সুবিধা দিয়ে আসছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কিছু গ্রাহক এই সব সরকারি নীতি সহায়তা গ্রহণ করা সত্ত্বেও সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে রিটসহ বিভিন্ন মামলা অব্যাহত রেখেছেন। এতে দেশের আর্থিক খাতে তীব্র মামলাজট তৈরি হচ্ছে এবং স্বাভাবিক তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।
আইনি এই জটিলতা দূর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত বর্তমান বা ভবিষ্যৎ যেকোনো প্রণোদনা কিংবা সুবিধা পাওয়ার প্রথম শর্তই হলো মামলা প্রত্যাহার। আবেদনকারী গ্রাহককে প্রথমে সমস্ত চলমান মামলা তুলে নিতে হবে এবং তার পরই কেবল তাঁর আবেদন বিবেচনার সুযোগ তৈরি হবে।
সহায়তা অনুমোদনের সুবিধার্থে গ্রাহকদের আইনি ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার বিধানও রাখা হয়েছে। নীতিগত সম্মতি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হলফনামা বা অ্যাফিডেভিট গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই হলফনামায় স্পষ্ট ঘোষণা থাকতে হবে যে—সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঐ গ্রাহকের কোনো মামলা ঝুলন্ত অবস্থায় নেই। পাশাপাশি আগে প্রত্যাহার করা মামলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকাও সার্কুলারের শর্তানুযায়ী জমা দিতে হবে।
তবে গ্রাহকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সার্কুলারে আরও বলা হয়, হলফনামা দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো গ্রাহকের অনুকূলে অনুমোদিত প্রণোদনার শর্তাবলীতে আর কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩’-এর ৪১ ধারায় প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটি।


