https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে তোলা প্রশ্ন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট আইনি আবেদনের শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান।
উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ, যিনি গত সপ্তাহে এই আবেদনটি জমা দিয়েছিলেন।
দায়ের করা রিটে সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদকে মূল সংবিধানের স্পিরিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে তা বাতিলের রুল চাওয়া হয়। একই সাথে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনী সময়সূচিকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত গণ্য করা হবে না—তা জানতে চেয়ে আদেশ প্রার্থনার পাশাপাশি মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী—কোনো দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পদে আসীন থাকা অবস্থায় নিজ দল ত্যাগ করলে কিংবা সংসদে দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল বলে গণ্য হয়।
শুনানি শেষে রিটকারী আইনজীবী সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, অনুচ্ছেদ ৭০-এর বাধ্যবাধকতার ফলে আইনপ্রণেতারা স্বাধীন মতামত প্রকাশ ও দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার অধিকার হারান। এটি তাদের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের নিয়ম কার্যকর রেখে রাষ্ট্রপতি পদের ভোটাভুটি কোনো বাস্তব অর্থ বহন করে না, কারণ এতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রাধান্যই চূড়ান্ত রূপ নেয়।
তবে রিট আবেদনটি আদালত কর্তৃক খারিজ হয়ে যাওয়ায় ঘোষিত তফসিল অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন সম্পন্ন করতে আর কোনো আইনি জটিলতা রইল না।


