ঢাকা
১৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
উপসচিব হলেন ২৭৭ জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব র‍্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ গঠনের বিলে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন  হকার ব্যবস্থাপনার নীতিমালা প্রকাশ, নির্ধারিত ফি দিয়ে করতে হবে ব্যবসা ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ: ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৮৭০ আক্রান্ত, খুলনা বিভাগে ১ জনের মৃত্যু জুলাই গণহত্যা মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের ভাগ্য নির্ধারণ যেকোনো দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ ক্রাউন প্রিন্সের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত স্বর প্রতিফলিত হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পুনর্গঠনের কাজ করছে বর্তমান সরকার: রিজভী মূল বেতন ১০০% বাড়ানোর সুপারিশ নিয়ে চূড়ান্ত পে-স্কেল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অন্তহীন পথ চলা : মাহদী আমিন
Advertise with us

 হকার ব্যবস্থাপনার নীতিমালা প্রকাশ, নির্ধারিত ফি দিয়ে করতে হবে ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬   ১৭ বার পঠিত
 হকার ব্যবস্থাপনার নীতিমালা প্রকাশ, নির্ধারিত ফি দিয়ে করতে হবে ব্যবসা

ছবি: -প্রতিনিধি

রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, পথচারীবান্ধব ও যানজটমুক্ত রাখার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে সরকার।নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিতি ফি দিয়ে নির্দিস্ট স্থানে ব্যবসা করতে পারবেন হকাররা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, হকারদের জীবিকা বন্ধ করার উদ্দেশ্য ডিএসসিসির নেই। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভাসমান মানুষকে ঢাকায় এনে হকার হিসেবে পুনর্বাসন করাও সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে।

হকার হতে নিবন্ধনে কত টাকা লাগবে

‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী হকারদের জন্য তিন ধরনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এককালীন নিবন্ধন ফি: ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি: ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ফি: মাসে ৩ হাজার টাকা।

সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে।

কারা হকার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন

নীতিমালা অনুযায়ী হকার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। একই সঙ্গে তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

নিবন্ধিত হকারদের ব্যবসার নির্ধারিত স্থান ও সময় উল্লেখ করে বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। ফলে কোন হকার কোথায় এবং কখন ব্যবসা করতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট থাকবে।

মূল সড়কে বসতে পারবেন না হকাররা

ডিএসসিসি প্রশাসক জানিয়েছেন, মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে যেসব সড়কে প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে, সেখানে পথচারীদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রেখে নির্দিষ্টসংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

এ ছাড়া নির্ধারিত জায়গার বাইরে থাকা হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট ও নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

নীতিমালাটি স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০(২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস্তবায়নের জন্য জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার-শনিবার চলবে হলিডে মার্কেট

নীতিমালায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলিডে মার্কেট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে এ ধরনের মার্কেট পরিচালনা করা যাবে।

অর্থাৎ সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে নির্দিষ্ট স্থানে হকাররা ব্যবসার সুযোগ পাবেন।

সন্ধ্যার পর নাইট মার্কেট

বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময় শেষ হওয়ার পর নাইট মার্কেট পরিচালনা করা যাবে। এর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

তবে সব জায়গায় নাইট মার্কেট করা যাবে না। মাঠ, উপাসনালয় বা কবরস্থানে এ ধরনের মার্কেট বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা

হকারদের স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মোট বরাদ্দযোগ্য স্থানের ৩০ শতাংশ নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।

এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ফুটপাতে পথচারীদের জন্য পাঁচ ফুট জায়গা বাধ্যতামূলক

নীতিমালায় পথচারীদের চলাচলের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে পথচারীদের জন্য কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ মিটার বা প্রায় ৫ ফুট জায়গা খালি রাখা বাধ্যতামূলক।

এ ছাড়া ফুটপাতে কোনো ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না। অর্থাৎ হকারের ব্যবসার কারণে ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখল বা চলাচলের অনুপযোগী করা যাবে না।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হকারদের

ব্যবসা পরিচালনার পর নিজ নিজ স্থান পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব হকারদের ওপর থাকবে। উৎপন্ন বর্জ্য নির্ধারিত বিনে ফেলতে হবে।

নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা, নির্ধারিত সীমানার বাইরে বসা কিংবা নীতিমালার নির্দেশনা অমান্য করলে উচ্ছেদ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হকারের নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে।

টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্ব

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকার হকার সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করতে হলে নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত ফি দিয়ে নিবন্ধন, নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে হকার ও নাগরিক—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে, অন্যদিকে নিবন্ধিত হকারদের জন্য নিয়মতান্ত্রিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa