https://asia24.tv


এএফপি। ছবি: -সংগৃহীত
পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) ভোরে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প ও টানা আফটারশকে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ব্যাপক ভবন ধস ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে ওই অঞ্চলে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভূপ্রকৃতিবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি জানায়, ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে শক্তিশালী কম্পনটি সৃষ্টি হয়। এতে ইস্ট নুসা টেঙ্গারা, ওয়েস্ট নুসা টেঙ্গারা ও দক্ষিণ সুলাওয়েসির বিশাল এলাকা প্রায় এক মিনিট ধরে তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। প্রাথমিক ভূমিকম্পের পরপরই সুনামির চরম সতর্কতা জারি করে উপকূলবাসীদের দ্রুত উঁচুতে সরে যেতে বলা হয়। তবে সমুদ্রে আশঙ্কাজনক ঢেউ না ওঠায় পরবর্তীতে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
ইস্ট নুসা টেঙ্গারার পুলিশ প্রধান রুডি দারমোকো নিশ্চিত করেছেন, ভয়াবহ এই কম্পনে ভবন ধসে সিক্কা রিজেন্সিতে ২ জন এবং মাঙ্গারাই রিজেন্সিতে ৩ জন মারা যান। প্রাকৃতিক দুর্যোগে নাগেকেও এলাকা থেকে প্রায় দুই হাজার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি)। শত শত কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা মাটির সাথে মিশে গেছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং সঠিক প্রাণহানির হিসাব পেতে ব্যাঘাত ঘটছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ও রয়টার্স নিশ্চিত করা ভিডিও ফুটেজে ফ্লোরেস দ্বীপের সিক্কা শহরের বহুতল ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি আতঙ্কিত মানুষকে রাস্তায় ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এন্দে জেলার বেশ কিছু হাসপাতালে ভূমিধস ও ভবন ধসের ঝুঁকিতে রোগীদের দ্রুত খোলা মাঠে বের করে আনা হয়। অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনায় অস্ট্রেলীয় মূল ভূখণ্ডে কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই।
উল্লেখ্য, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় ঘনঘন ভূমিকম্প ও সুনামির ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৯৯২ সালে ফ্লোরেস দ্বীপে ভয়াবহ সুনামিতে আড়াই হাজার, ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে সুমাত্রা উপকূলের ৯.১ মাত্রার ঐতিহাসিক ভূমিকম্প-সুনামিতে ২ লাখ ৩০ হাজার এবং ২০১৮ সালে পালু শহরের ভূমিকম্পে ৪,৪০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।


