https://asia24.tv


যোগী আদিত্যনাথ। ছবি: -সংগৃহীত
১৯৪৭ সালের দেশভাগের জন্য ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে সরাসরি দায়ী করে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, দেশভাগের সময় মোদির মতো প্রধানমন্ত্রী থাকলে ভারত অখণ্ড থাকত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশভাগের সময় বাঙালি-প্রধান এলাকা ও সব হিন্দু গ্রামকে জোর করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
লখনউয়ে দেশভাগের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এসব বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, ১৯৪৭ সালে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে দেশকে কেউ খণ্ডবিখণ্ড করতে পারত না।
আদিত্যনাথ বলেন, “স্বাধীনতার সময় নরেন্দ্র মোদির মতো প্রধানমন্ত্রী থাকলে ভারত আজ অখণ্ড থাকত। কংগ্রেস নেতাদের ক্ষমতার লোভ ও কাপুরুষতার জন্য দেশকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। সিএএ (সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন) বিরোধী আন্দোলনের সময়ও তাদের সেই একই রূপ দেখা গেছে।”
এই বিজেপি নেতার অভিযোগ, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান এমন কিছু ভূখণ্ড পেয়েছিল যা তারা কখনোই দাবি করেনি। তাঁর দাবি, সিন্ধু এলাকা হিন্দু ও সিন্ধি-অধ্যুষিত হওয়া সত্ত্বেও তা পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একইভাবে পাঞ্জাবি-অধ্যুষিত এলাকাও তাদের দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট টেনে যোগী আদিত্যনাথ আরও বলেন, “বাংলা ছিল মূলত বাঙালি-অধ্যুষিত অঞ্চল। সেখানকার সব হিন্দু গ্রাম জোর করে বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতার লোভে কংগ্রেস এই লজ্জাজনক কাজ করেছিল। দেশ তাদের ওপর ভরসা করেছিল, আর তারা ভরসার প্রতিদান দিয়েছে চরম বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে।”
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর যেকোনো হামলার ঘটনায় কংগ্রেস রহস্যজনক নীরবতা পালন করে। নিজের ভোটব্যাংক হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তারা এসব বিষয়ে মুখ খুলতে চায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। আদিত্যনাথ দাবি করেন, প্রাচীনকালে ভারতের ধনসম্পদের কারণেই বিদেশি আক্রমণকারীরা আকৃষ্ট হয়েছিল এবং বর্ণ, অঞ্চল ও ভাষার ভিত্তিতে নিজেদের বিভাজনের কারণেই ভারত পরাধীন হয়েছিল।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) সমর্থন জানিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একসময় অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল। এসব দেশে নির্যাতিত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা ভারতে আশ্রিত থাকলে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, যা কোনো ভারতীয় নাগরিকের অধিকার হরণ করে না। দেশভাগের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত ভারতকে আজও সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের মাধ্যমে দিতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


